News

ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?

ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই? ১৬০০ সালের এই দিনে ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাণিজ্যের চার্টার প্রদান করেন। আজ জেনে নিব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্কে-
?পরিচিতি-
ব্রিটিশ নৌ-সংগঠন, যা প্রাচ্যের জলপথে একচেটিয়া বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে এবং পরবর্তীসময়ে ভারতে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।

ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?


?প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ-
-১৬০০ সালে রানী এলিজাবেথ প্রদত্ত সনদ এর মাধ্যমে সৃষ্ট কোম্পানির প্রাথমিক নাম ছিল ‘The Governor and Company of Merchants of London Trading into the East Indies’.
-১৬০৮ সালে কোম্পানির এমনি একটি সমুদ্র যাত্রা সুরাটে পৌঁছালেও কোনো পণ্য আদান-প্রদান হয়নি। ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণকারী পর্তুগিজেরা তাদেরকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
-১৬১২ সালে কোম্পানি মুগল প্রশাসন থেকে সুরাটে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করলে পর্তুগিজদের মোকাবেলা করার জন্য কোম্পানি তাদের সমশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
-রাজা প্রথম জেমস্ ১৬১৫ সালে স্যার টমাস রো’কে সম্রাট জাহাঙ্গীর এর দরবারে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। রো কর্তৃক রাজার পক্ষ থেকে সম্রাটকে উপঢৌকন প্রদান এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহার সম্রাটকে সন্তুষ্ট করে। ফলশ্রুতিতে সম্রাট এর নিকট দূত এর সব প্রার্থনা মঞ্জুর হয় এবং কোম্পানি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে ‘ফ্যাক্টরি’ বা বাণিজ্যকুঠি নামে বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করার সুযোগ লাভ করে।

ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?

  • ১৬৩৯ সালে কোম্পানি ওয়ান্ডিওয়াশ এর স্থানীয় প্রশাসকের কাছ থেকে মাদ্রাজে একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা লাভ করে এবং এর মাধ্যমে কোম্পানি এ স্থান নিজেদের ভূখন্ডের ন্যায় শাসন করার অধিকার পায়। কোম্পানি মাদ্রাজে সেন্ট জর্জ ফোর্ট নির্মাণের পর তা ভারতে কোম্পানি বাণিজ্যের সদর দফতরে পরিণত হয়।
    -১৬৫৮ সালে তারা কাসিমবাজারে এবং ১৬৬৮ সালে বাংলার রাজধানী ঢাকায় একটি করে নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপন করে।
    -জব চার্নক কর্তৃক ১৬৯০ সালে কলকাতা শহর পত্তনের মাধ্যমে ফ্যাক্টরি স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
    -১৬৯৬ সালে শৈাভ সিংহ-এর বিদ্রোহ কোম্পানিকে তার কলকাতা বসতির নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়। বালার সুবাহদার এর সামরিক তাৎপর্য অনুধাবন না করেই কোম্পানিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুমতি প্রদান করেন।
    -১৬৯৮ সালে কোম্পানির প্রতিদ্বন্দ্বী অপর একটি কোম্পানি গঠিত হয়। এটি ‘General Society Trading to the East Indies’ নামে সংসদীয় ভাবে অঙ্গীভূত হয়।
    -এ ঘটনা সমূহের পথ ধরেই কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গ স্থাপিত হয় এবং ১৭০০ সালে এটি একটি স্বাধীন প্রেসিডেন্সিতে রূপান্তরিত হয়।
    -১৭০২ সালে দুপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘East India Companies’ একটি নতুন সনদের মাধ্যমে একীভূত হয় এবং নতুন নাম হয় ‘The United Company of Merchants of England Trading to the East Indies’.
    -১৭০৭ সালে আওরঙ্গজেব এর মৃত্যুর পর কোম্পানি কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করে। কিন্তু মুর্শিদকুলী খান দৃঢ়ভাবে নতুন সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিরোধিতা করেন এবং পুরনো সুবিধাদি কড়াকড়িভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।
    -১৭১৭ সালের ফররুখ সিয়ারের ফরমান জারি করে কোম্পানিকে যেসব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়-
    ১. কোম্পানির বর্তমান সুবিধাদির অতিরিক্ত হিসেবে কলকাতা বসতির পাশ্ববর্তী ৩৮টি মৌজার জমিদারি দেওয়া হবে।
    ২. কোম্পানি এবং অন্যান্য ইংরেজদের কোনো পণ্য চুরি গেলে, চুরি হয়ে যাওয়া পণ্যসমূহ উদ্ধারের ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। পণ্য উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণ অবশ্যই প্রদান করতে হবে।
  • ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?
    ৩. সুরাট মানের মাদ্রাজি টাকার অবমূল্যায়ন না করে একই মানে বাংলায় তা চালু করতে হবে।
    ৪. মূল সনদ প্রদর্শনের জন্য দাবি করা যাবেনা।
    ৫.কোম্পানির কাছে দায়বদ্ধ বা ঋণগ্রস্ত এমন সব ব্যক্তিদেরকে ফ্যাক্টরি প্রধানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
    ৬.ফ্যাক্টরি প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত দস্তকপ্রাপ্ত পণ্য চৌকি দ্বারা থামানো বা পরীক্ষা করা যাবেনা।
    ৭. সুবাহদার কোম্পানিকে মুর্শীদাবাদ টাকশাল থেকে মুদ্র জারি করার বিষয়ে অনুমতি দিবে।
    -১৭২৭ সালে মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যুর পর সুজাউদ্দীন খান ক্ষমতা দখল করলে কোম্পানি তাদের দাবি সমূহকে পুরোপরি কার্যকরী করার সুযোগ পায়।
  • ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?
    -নওয়াবের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঠান্ডা হওয়া সত্ত্বেও সুজাউদ্দীন খানের আমলে (১৭২৭-১৭৩৯) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্য ব্যাপক ভাবে বেড়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার প্রতি কোম্পানির আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
    -কোম্পানির প্রতি সহানুভূতিশীল একজন নওয়াব যাতে মুর্শিদাবাদের ক্ষমতায় আসীনাকেন এমন ধরনের নীতি কোম্পানি গ্রহণ করেছিল। কোম্পানি এমন একটি সুযোগ আলীবর্দী খানের শাসনামলেই (১৭৪০-১৭৫৬) পেয়ে যায়।
    -পরবর্তীতে মুর্শিদাবাদের মসনদে সিরাজউদ্দৌলা আসীন হওয়ার পর মারাঠাদের আক্রমণও বন্ধ হয়ে যায়। সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানিকে বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য তিনটি শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দেন।
    (ক) কলকাতার অবৈধ প্রতিরক্ষা স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে হবে
    (খ) ইংরেজগণ অবশ্যই দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং
    (গ) তাঁদের এদেশের আইন মেনে চলতে হবে।
    রবার্ট ক্লাইভ ১৭৫৭ সালের ২ জানুয়ারি কলকাতা পুনর্দখল করেন এবং হুগলির মুগল বন্দর ধ্বংস করেন। তরুণ নওয়াবের বিরোধী মুশীর্দাবাদ দরবারের একটি উপদলের সঙ্গে জগত শেঠ এর নেতৃত্বে সংলাপ শুরু হয়। ইংরেজদের সকল সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীগণ একটি গোপন চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তিতে সম্প্রতি বরখাস্তকৃত নওয়াবের বখশী মীরজাফরকে বাংলার ভবিষ্যৎ নওয়াব হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীতে একটি পাতানো যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নওয়াবের অধিকাংশ সৈন্য মীরজাফর ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের পক্ষ নিয়ে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে। সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং মীরজাফরের পুত্র মীরন কর্তৃক নিহত হন।
  • ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?
    ?কোম্পানির অবলুপ্তির সূচনা-
    পলাশীর যুদ্ধের পরই ইংরেজ শক্তি পুতুল নবাবের কাছ থেকে ২৪ পরগনাকে উপহার হিসেবে আদায় করে নেয়।
    -১৭৬০ সালের মধ্যে বাংলার তিনটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্পদশালী জেলা (বর্ধমান, মেদেনীপুর এবং চট্টগ্রাম) কোম্পানি অধিগ্রহন করে নেয়।
    -১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি ও রাজস্ব ক্ষমতা গ্রহন করে। ১৭৬৫ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত কোম্পানি বাংলার প্রশাসনের সঙ্গে রাজস্ব ক্ষমতা ভাগাভগি করলেও তারা প্রশাসনিক কোনো দায়-দায়িত্ব সরাসরি গ্রহন করেনি।
    এ সময়েই কোম্পানী ও তার কর্মচারিদের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বাংলার সম্পদ নির্বিচারে ধ্বংস হয়েছে। ফলে দেশের শুধু অর্থনীতিতেই না, আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও দ্রুত অবনতি ঘটে।
    -কোম্পানির এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলেই ১৭৬৯-৭০ সালে দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ মানুষের প্রাণহানী ঘটে। ক্ষমতা দখল করে কোম্পানি কেবল বাংলায় দুর্যোগ ডেকে আনে নি, বরং তা নিজের সর্বনাশের কারন হয়ে দাঁড়ায়।
  • ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?
    ?কোম্পানি আমলের সমাপ্তি সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী-
    -১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট দুটি সমান্তরাল বিষয়ের জন্ম দেয়। (১) কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে সরকারি (ব্রিটিশ) নিয়ন্ত্রণ প্রবেশ করে এবং (২) ১৮৫৮ সালে কোম্পানির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি হওয়া পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
    -১৭৮৪ সালে সরকার ভারতে কোম্পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের একটি বিশদ আইন তৈরি করে। কোম্পানি ব্যবস্থাপনা তদারকি করার জন্য একটি স্থায়ী সংসদীয় কমিটি বোর্ড অব কন্ট্রোল গঠন করা হয়।
    -বেসরকারি ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের চাপে ১৭৯৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য করার অধিকার অনেকটা শিথিল করা হয়।
    -১৮১৩ সালের চার্টার আইনের মাধ্যমে কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য করার অধিকার রদ করার সিদ্ধান্তটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত তখন মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
    -১৮৩৩ সালের চার্টার আইনের মাধ্যমে কোম্পানির বাণিজ্যিক তৎপরতা বিলুপ্ত হয়। তবে চীন দেশে বাণিজ্য করার অনুমাতিটি বহাল রাখা হয়।
  • ব্রিটিশ শাসন আমল? ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস বই?
    -১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে সীমিত করা হয়। কোম্পানির সর্বশেষ সম্মান এবং সুবিধাটি ছিল ডাইরেক্টর কর্তৃক সিভিল সার্ভিসে ক্যাডেট মনোনীত করা। ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের অধীনে কোম্পানির এ সুবিধাটিও রদ করা হয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে সিভিলিয়ান নিয়োগের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।
    -দুশত বছর ধরে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় সংগঠন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এরপর একটি খোলসে পরিণত হয় এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব এর পর ১৮৫৮ সালে রানীর ঘোষণার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিলুপ্ত হয়।
    সংকলনে- মাসুদ মুস্তাফিজ

Trick Learn

Trick Learn is the most updated Tricks for modern people to do work with the best technology and make the world small.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x