Facebook Popular

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আজ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড আইসিউতে একজন ডাক্তারকে হারালাম, বয়স মাত্র ৩২ বছর। গত ২৬/১১/২০২০ সকালে খবর পেলাম ২৯ নম্বর করোনা ওয়ার্ডে এইমাত্র একজন ডাঃ ভর্তি হয়েছেন যার ১৫ লিটার অক্সিজেন দিয়ে মাত্রা ৬৪%. অামি তখনই কোভিড অাইসিইউ তে পাঠাতে বলে দিলাম। একটু পরই একজন বয়স্ক লোক বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে অামার রুমে এসে বসলেন। কারন, জানতেই বললেন, ঐ ডাক্তারটি অামার মেয়ে।১০ দিন যাবত জ্বর, কাশি।

Tab. Zimax, Cap. Cef-3 সহ অনেক Antibiotics খেয়েছে, কিছুই উন্নতি হচ্ছে না,অাজ ভোর থেকে অনেক শ্বাসকষ্ট। স্থানীয় একটি বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাশ করার পর রাজশাহী শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে করোনাকে ভয় না পেয়ে অাপনাদের কারো কারো USG করেছেন, কিন্তু নিজের জ্বর, কাশি নিয়ে কোন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর সাথে পরামর্শ করেননি। উনার বাচ্চা হবার পর থেকে Uncontrolled DM. অামি প্রশ্ন করলাম, করোনা পরীক্ষা করাননি কেনো? উনি জানালেন,পজেটিভ হলে সামাজিক সমস্যার কথা, এছাড়াও উনার একটি ছোট্ট নাতি অাছে তাকে দেখা শোনার সমস্যা। জামাই প্রকৌশলী, ঢাকায় থাকেন।অামি অবাক হলাম, দুজন চিকিৎসক এর পরিবারের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে অামাদের সমাজ এখনো কোথায় অাছে। অক্সিজেন ট্রলি পাঠিয়ে দিয়ে অামি PPE পরে নিয়ে নির্ধারিত বিছানায় অপেক্ষা করছি।অামি খুব অবাক হলাম প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট নিয়ে পিতাসহ ডাক্তার রোগীটি অাইসিইউ তে ঢুকলেন, কথা বলার শক্তি নেই। Monitor এ SPO2 56%. High Flow দিয়ে কিছু উন্নতি নেই, Non Invasive Ventilation দিলাম, ৭৫-৮০% এর বেশি হচ্ছিল না। RBS -18.1mg/dl, অন্য কোনো পরীখা করা নেই। অামার চোখের সামনে একজন চিকিৎসক মারা যাবে এটা বুঝে ফেললাম।তাই,Intubation করার প্রস্তুতি নিলাম, একটু পর ৮৫-৮৮% হলো।

অাপাতত রক্ষা পেলেও দীর্ঘদিন করোনা অাইসিইউ তে সরাসরি কাজ করার সুবাদে তখনই Declare করেই দিলাম, এত কম অক্সিজেন নিয়ে যারা অাইসিইউ তে বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবু অামরা অামাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। রামেক হাসপাতালের Critical Covid pt management Committee কে Activate করলাম, যার সদস্য সচিব অামি নিজে।সভাপতি মেডিসিন বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ সকলের সাথে পরামর্শ করলাম। একটু উন্নতিও হয়েছিল। অাজ ফজরের অাযানের সময় মহান আল্লাহ পাক এর হুকুমে পরপারে চলে গেলেন।সুতরাং সাধারণ জ্বর, সর্দি কাশি নিয়ে ৫-৭ দিন পার হলেই সরকারি হাসপাতালে অাসুন। এবারের করোনা ভাইরাস একটু হিংস্র প্রকৃতির। অাপনি বা অাপনার অাপনজন সময় মত চিকিৎসা না নিলে পরপারে চলে যেতে পারেন। জানেন তো, Prevention is better than Cure. করোনা বা অন্য ভাইরাস সংক্রমণে Antibiotics এর কোন ভুমিকাই নেই। তাই, অযথা বিনা প্রয়োজনে কোন ঔষধ খাবেন না।তাই, মাস্ক পরুন, নিয়মমত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলুন।মহান আল্লাহ পাক এর কাছে দোয়া করবেন সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী দের জন্য। এবং অামাদের সকলকে এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেন

কার্টেসীঃ Dr. Mostafa Kamal Nupur

Trick Learn

Trick Learn is the most updated Tricks for modern people to do work with the best technology and make the world small.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
x