Medical TricksSexual Issue

স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়, নারীর স্তনে ব্যথা, ডান দুধে ব্যাথা

স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়|স্তন ব্যথা করলে অনেক নারীই ভেবে বসেন স্তন ক্যান্সার হয়েছে। কিন্তু স্তন ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটা আপনার স্তনে আঘাত হতে পারে কিংবা অন্য কোন কারনেও হতে পারে। অধিকাংশ নারী তাদের স্তনে ব্যথা অনুভব করেন বিভিন্ন সময় এবং এই ব্যথা হওয়ার আসল কারণ অনেক কিছুই হতে পারে। পিরিয়ড চলা কালীন সময়ে স্তনে ব্যথা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এটা কোন চিন্তার বিষয় নয়। কারণ এই ব্যথা শুধু মাত্র দেহে হরমোন পরিবর্তনের কারণেই হয়ে থাকে।

 

নিপলের যত্ন

নিপলের যত্ন নেওয়া অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন একজন নারীর জন্য। নিপলের যত্ন না নিলে এটি ক্রমাগতভাবে বাড়বে অগাছালো ভাবে। তাই নিপলের যত্ন নিতেইহবে। তাছাড়া পুরুষের চোখ প্রথমে নারীর মুখ তার পরেই কিন্ত নিপল। তাই আপনাকে নিপলের যত্ন নিতেই হবে মাস্ট।

স্তন ভালো রাখবেন যেভাবে-

ম্যাসেজ: স্যাগিং আটকাতে নানা ধরনের ম্যাসেজ রয়েছে। অয়েল ম্যাসেজের মধ্যে পড়ে অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল, স্পিয়ারমিন্ট অয়েল ইত্যাদি। এছাড়া স্যাগিং প্রতিরোধে সবচেয়ে ভাল আইস ম্যাসেজ।

কয়েকটি আইস কিউব নিয়ে স্তনের চারপাশে বৃত্তাকার ভাবে ম্যাসেজ করুন অথবা একটি জিপলক ব্যাগে কুচো বরফ নিয়ে এইভাবে মাসাজ করুন। সপ্তাহে দুই তিনবার এই ম্যাসেজ করতে হবে। এতে স্তনের আশপাশের কোষে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও স্তনের শেপ সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

এছারা ঘৃতকুমারী ত্বক টান টান করে স্তনকে আবার উন্নত করে তুলতে খুবই কার্যকর। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান ভেতর থেকে আপনার স্তনকে সুন্দর করে তোলে। ঘৃতকুমারী থেকে ভেতরের জেল জাতীয় উপাদান বের করে নিন। এই জেল স্তনে ম্যাসাজ করে করে মাখুন ১০ মিনিট। এরপর আরও ১০ মিনিট স্তনে এই জেল রাখুন। তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ বার করুন কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: দেহের একটি নির্দিষ্ট ওজন বজায় রাখুন। ক্রমাগত মোটা এবং রোগা হলে, ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং স্তন ঝুলে পড়ে।

প্রচুর পানি খান: ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখার প্রধান উপায় শরীরের প্রচুর পরিমাণ পানির সরবরাহ। প্রতিদিন অন্তত ৪ লিটার পানি খান। তার বেশি খেতে পারলে তো কথাই নেই। প্রচুর পানি ভীষণ জরুরী। শুধু স্তনের নয়, আপনার মুখেও বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতে পানি পান অত্যন্ত জরুরী। আমাদের দেহের কোষের বেশিরভাগটাই পানি।

তাই শরীরে যখন পানির অভাব দেখা দেয়, খুব স্বাভাবিক ভাবে তখন ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায়। চামড়া ঝুলে যেতে থাকে, ত্বকে টোল পড়ে, সম্পূর্ণ ত্বকই মলিন-বিবর্ণ আর কুঁচকানো দেখায়। আর সবচাইতে বেশী এটা ভোগ করে আপনার মুখ ও স্তন।

খারাপ অন্তর্বাস ত্যাগ করুন: ব্রা-এর শেপ, ফিটিং এবং সাইজের উপরও নির্ভর করে স্যাগিং। দীর্ঘদিন ধরে ঠিক সাইজের ব্রা না পরলে, ফিটিংস আলগা হলে বা কাপ সাইজ ঠিকঠাক না হলে স্যাগিং হয়। তাই অন্তর্বাস কেনার সময় সতর্ক থাকুন। ভাল ব্র্যান্ডের প্যাডেড ব্রা পরা ভাল আর যাঁদের ইতিমধ্যেই স্যাগিং হওয়া শুরু হয়েছে তাঁদের আন্ডারওয়্যার ব্রা পরা উচিত। ভালো ব্র্যান্ডের প্যাডেড ব্রা পরলে শরীর ও ব্রেস্ট দুই ভাল থাকে।

কিছু বিশেষ খাবার খান: শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকলে বুকের চারপাশের মাংসপেশিগুলি আলগা হতে থাকে। তাই রোজ অন্তত ১০০ গ্রাম প্রোটিন খেতে হবে। কোনও বিশেষ রোগ থাকলে, কী ধরনের প্রোটিন খাবেন, তা নিয়ে ডায়টিশিয়ানের পরামর্শ নিন। দ্রুত ওজন কমিয়ে ফেললে যেমন স্তনের শেপ নষ্ট হয়ে স্তন ঝুলে যায়, তেমনই কিছু বিশেষ খাবার অর্থাৎ পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে স্তন ঝুলে যেতে পারে। প্রতিদিন অল্প কিছু ব্যায়াম করার পাশাপাশি অবশ্যই একটি ব্যালান্সড ডায়েট মেনে চলবেন।

নিজের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখবেন ভালো পরিমাণে চর্বিহীন প্রোটিন, ভিটামিন ও, ভিটামিন ই মিনারেলস সমৃদ্ধ শাকসবজি, অল্প কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। এবং কিছু খাবার আছে, যেগুলো প্রতিদিন খাবেন। যেমন- টমেটো, পেঁয়াজ, গাজর, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, রসুন ইত্যাদি।

ব্রেস্ট ফার্মিং এক্সারসাইজ করুন: বেশ কিছু সাধারণ এক্সারসাইজ রয়েছে যা নিয়মিত করলে স্যাগিং প্রতিরোধ করা সম্ভব। সবচেয়ে সহজ হল পুশ-আপ। তা ছাড়া রয়েছে চেস্ট প্রেস, ডাম্বল ফ্লাইস, টি-প্লাঙ্কস, এলবো স্কুইজ ইত্যাদি। প্রত্যেকটিই প্রতিদিন আট-দশবার করলেই যথেষ্ট। আর যদি ডাম্বেল না থাকে, তবে অন্য কোনও ভারি জিনিস নিয়ে করতে পারেন এক্সারসাইজ।

ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপানের ফলে স্তন ঝুলে যায় এটা অনেকেই জানেন না। মহিলাদের ধূমপান করতে বারণ করার পিছনে এ ও একটি বড় কারণ। তা ছাড়া অতিরিক্ত সান-ট্যানিং করলেও স্যাগিং হয়।

ব্রেস্ট মাস্ক করুন: ফেসিয়াল করার মতোই হল এই মাস্ক যা সপ্তাহে একবার করা উচিত স্যাগিং রোধে। ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ ভিটামিন-ই অয়েল এবং ১টি ডিম ফেটিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি স্তন এবং স্তনের চারপাশে মাখিয়ে আধ ঘণ্টা রেখে দিন। তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন।

দীর্ঘক্ষণ ব্রা পড়বেন না: ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জাঁ-ডেনিস রইলো ১৮ থেকে ৩৫, বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৩০০ জন মহিলার স্তন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকলে মহিলাদের শারীরিক ক্ষতিই হয়। তাঁর গবেষণা বলছে, যে সব মহিলারা দীর্ঘ কয়েক বছর ব্রা না পরে থেকেছেন, তাঁদের স্তনবৃন্ত উন্নত হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি এ ও বলেছেন যে, তাই বলে ব্রা পরা একেবারেই ত্যাগ করা যায় না।

ম্যামোগ্রাম: একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর স্তন সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডাক্তারের সাথে কথা বলে বার্ষিক স্তন পরীক্ষা বা ম্যামোগ্রাম করান যাতে কোনো রোগ থাকলে তা শনাক্ত করা যায় দ্রুত। তবে পারিবারিক ইতিহাস না থাকলে ম্যামোগ্রাম না করিয়ে সাধারণ ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পারেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বাড়ে, পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পর ঝুঁকি বেশি বাড়ে। তবে অজানা কারণে আমাদের দেশে চল্লিশ এর পরই বেশি দেখা যায়। বিআরসিএ-১ ও ২ জিনের অস্বাভাবিক মিউটেশন ৫ থেকে ১০ শতাংশ দায়ী স্তন ক্যান্সার এর জন্য। কারো পরিবারের কোন নিকটাত্মীয় যেমন মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ে স্তন ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার স্তন ক্যান্সার এর ঝুঁকি বেশি থাকে।

 

কিন্তু তারপরও অনেক নারী চিন্তিত থাকেন স্তনে ব্যথা হওয়ার কারণে এবং তারা অনেকেই জানেন না কেন এবং কি কারণে স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে। তাই জেনে রাখুন স্তনে ব্যথা হওয়ার ৭ টি সম্ভাব্য কারন।

 

দেহে হরমোন পরিবর্তন

প্রকৃতিগতভাবেই কিশোরী মেয়েদের যখন পিরিয়ড হয় তারা তাদের স্তনে হালকা ব্যথা অনুভব করে থাকে। আবার অনেক সময় পিরিয়ড হওয়ার আগেও স্তনে ব্যথা হয়, স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়। পিরিয়ড হওয়ার আগে ও পরে দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এই ব্যথা হয়ে থাকে। তাই ভয়ের কোন কারণ নেই। পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে এই ব্যথা থাকেনা।স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়|

 

গর্ভকালীন সময়

গর্ভধারণের সময় নারীরা স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। সাধারণত গর্ভবতী নারীর তিনমাস চলাকালীন সময় স্তনে ব্যথা হওয়া শুরু হয় কারণ তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায়। এবং অনেক সময় স্তনের উপর দিয়ে নীল শিরা দেখা যায় এর কারন তখন দেহে অনেক বেশি পরিমানে রক্ত প্রবাহ হতে থাকে ও হরমোনের অনেক পরিবর্তন ঘটে।

 

স্তন প্রদাহ

অনেক সময় নারীদের স্তনে প্রদাহ জনিত সমস্যা হয় তখন স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে। এটি হয়ে থাকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের আক্রমনে। তাই এই সময়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং এই ব্যথার জন্য আপনার জ্বরও আসতে পারে। এই সমস্যায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

 

স্তনের মধ্যে সিস্ট

অনেক সময় স্তনের ভিতর এক ধরণের সিস্ট হয়ে থাকে যার ভিতর তরল জাতীয় পদার্থ থাকে এবং এর নাম ব্রিজ সিস্ট। স্তনের গ্রন্থি যখন বৃদ্ধি পায় তখন অনেক সময় এই সিস্ট এর দেখা দেয়। স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়|এই সিস্টের কারণেই স্তনে ব্যথা হয়। যখন সিস্টের আকার বৃদ্ধি পায় তখন আপনি নিজেও বুকে হাত দিয়ে এই সিস্ট অনুভব করতে পারবেন। সিস্ট অনুভব করতে পারলে যতো দ্রুত সম্ভব স্তন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

 

বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময়

কোন নারী মা হওয়ার পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও স্তনে ব্যথা পেয়ে থাকেন। সবসময় বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে স্তন পরিষ্কার করে নেয়া ভালো কারণ এতে করে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস হওয়ার সম্ভবনা থাকেনা।

 

স্তনে ঘা

অনেক সময় স্তনে ঘা হয়ে থাকে যার কারণে স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে। এবং এই সমস্যাটি হয়ে থাকে মূলত যখন স্তনের নিপলে ব্যাকটেরিয়ার দেখা দেয় এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় যখন ভাইরাস আক্রমন করে। এই ধরণের সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

 

স্তনে ক্যানসার

বুকে ব্যথা হওয়ার মারাত্মক কারণটি হল স্তন ক্যান্সার। কিন্তু স্তনে ব্যথা তখনই হবে যখন আপনি দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারে ভুগবেন।

উপরের কারণ গুলোতে খুব স্বাভাবিক ভাবেই স্তনে ব্যথা হতে পারে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমেই তাহলে হয়তো স্তনে ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কমে আসতে পারে। স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়| তাই জেনে রাখুন যা করলে আপনি স্তন ব্যথা হতে আপনি মুক্তি পেতে পারেন।

আপনার স্তনের মাপ অনুযায়ী ব্রা পরুন। ছোট মাপের ব্রা এড়িয়ে চলুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন যাতে চর্বি কম ও পুষ্টি বেশি

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

তাহলে আপনার দেহের হরমোন পরিবর্তন এর সমস্যা দূর হবে।
ভিটামিন বি 6, ভিটামিন B1 (থায়ামিন), এবং ভিটামিন ই এই সকল উপাদান আপনার দেহের জন্য খুব দরকার। তাই এই সব উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
সচেতন থাকুন।

Trick Learn

Trick Learn is the most updated Tricks for modern people to do work with the best technology and make the world small.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button